
ছাত্র জীবনেই শিক্ষাবৃত্তি ও ওমরা পালনের সুযোগ দিচ্ছি
আবদুল্লাহ তামিম।।
সার্বক্ষণিক সবক তাকরার মুরাজাআতের ব্যবস্থা। এ বছর হাজিরা পুরস্কার নিয়েছে প্রায় ১৫ জন। ছাত্র হাজিরা পুরস্কার নিয়েছে ১৩৩ জন। এরা কোনো দিন ক্লাস নেয়নি। ছাত্রদের খাবারের সুবিধার মধ্যে আছে তিন বেলা রুটিন মাফিক খাবারের ব্যবস্থা। বর্তমান বাজারেও ছাত্রদের রুটিন মাফিক খাবারে মাছ, গোশত, শাক-সবজির ব্যবস্থা করে আসছে। তিনবেলা স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
আমাদের মাদরাসায় যারা প্রতি জামাতে ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অর্জন করে তাদের জন্য প্রতি মাসের ১ তারিখে শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়। বৃত্তির টাকাতেই যেনো তার পড়ার খরচ চলে সে ব্যবস্থা করা হয়। এটা চলমান প্রক্রিয়া। আর যারা মুমতাজ হবে তাদেরকে পুরো বছরের জন্য সকালের নাস্তা ফ্রি দেয়া হয়।
এছাড়াও যারা আমাদের মাদরাসায় পরীক্ষাগুলোতে ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অর্জন করে তাদেরকে পুরস্কার দেয়া হয়। এছাড়াও আমাদের মাদরাসায় ছাত্রদের মানোন্নয়নে বাংলা সাহিত্য চর্চা, হাতের লেখা প্রশিক্ষণ, আরবি ব্যাকরণ প্রশিক্ষণ, বক্তৃতা প্রশিক্ষণ ইত্যাদি আরো অনেক ধরণের আয়োজন থাকে। সেখানে যারা মেধার স্বাক্ষর রাখে তাদের উৎসাহিত করার জন্যও আমরা বিভিন্ন পুরস্কারের ব্যবস্থা করে থাকি।
আমাদের মাদরাসায় আলহামদুলিল্লাহ দুর্বল ছাত্রদের নিয়ে আলাদা মেনত করা হয়। সবল যারা আছে তারা তো আলহামদুলিল্লাহ দরসে পড়া বুঝে। আমাদের মাদরাসার নিয়ম হলো যতক্ষণ দুর্বলরা পড়া না বুঝবে ততক্ষণ সামনে যাওয়া যাবে না।
পড়শোনার পাশাপাশি ছাত্রদের হাতের লেখার প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রাখা হয়। প্রতিটি ছাত্রকে প্রতিটি কিতাবের আলাদা আলাদা নোট তৈরি করতে হয়। আল্লামা ইসহাক ফরীদি রহ. থাকতেই এ মাদরাসার এ নেযাম চলে আসছে, এখানে যে ছাত্র যে দিকে দুর্বল তাকে সে দিকে প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যবস্থা। যার হাতের লেখা খারাপ তাকে বিশেষভাবে হাতের লেখা সুন্দরের ব্যবস্থা করা। যে ছাত্র নাহু-সরফে দুর্বল তাকে নাহু-সরফের বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তার দুর্বলতা কাটিয়ে তুলার ব্যবস্থা করা। ছাত্রদের আরবি কথোকোপথনে অভ্যস্থ করে তোলার প্রতি গুরুত্ব দেয়া।
শিক্ষার মানোন্নয়নে সম্প্রতি মাদরাসার মুতাওয়াল্লি আলহাজ ইমাদুদ্দীন নোমান ঘোষণা দিয়েছেন, বাংলাদেশের কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরবিয়ার কেন্দ্রীয় পরীক্ষা ও আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়ার কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় প্রথম স্থান থেকে শুরু করে দশম স্থান পর্যন্ত সিরিয়ালে থাকতে পারলেই তাকে ওমরায় নিয়ে যাওয়া হবে। যদি একাধিক ছাত্র এ সিরিয়াল অর্জন করতে পারেন তাদের প্রত্যেককেই ওমরা করানো হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি। তিনি বলেন, আমাদের মাদরাসা সূচনা থেকেই ব্যতিক্রম। অন্য সব মাদরাসা থেকে শিক্ষা-দীক্ষা আদব-আখলাকে অনন্য হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করে আসছি। এবার আমরা ঘোষণা দিয়েছি তাইসির জামাত থেকে মিশকাত পর্যন্ত যারা বেফাকে ১-১০ স্থান অর্জন করবে, হাইয়াতুল উলইয়ায় তাকমিল থেকে যারা ১০ এর মেধা তালিকায় থাকবে আমরা তাদের ওমরা পালনের সুযোগ করে দিবো ইনশাআল্লাহ। এখন থেকে প্রতি বছর এ ধারা অব্যহত থাকবে।
আমাদের মাদরাসায় কেন্দ্রীয় পরীক্ষাগুলোকে সামনে রেখে কিতাব বিভাগের ছাত্রদেরকে হিফজ খানার ছাত্রদের মত নেগরানি করা হয়। কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় সহজতার লক্ষ্যে তাদের মডেল টেস্টের মাধ্যমে প্রস্তুতি নেয়ার ব্যবস্থাও করা হয়। মডেল উত্তর পত্র কিভাবে তৈরি করা যায়, সুন্দর গোছানো হাতের লেখার সাথে মডেল উত্তরপত্র তৈরি করার পদ্ধতি প্রশিক্ষণ এ ব্যবস্থাগুলোও মডেল টেস্টের মাধ্যমে আমরা ব্যবস্থা করে থাকি। উস্তাদগণ খুব যত্নসহকারে খাতা দেখে ভুলগুলো ধরিয়ে দেন যেনো কেন্দ্রীয় পরীক্ষা এ ধরণের ভুল না হয় সতর্ক করে দেন। আলহামদুলিল্লাহ ছাত্ররা এ মডেল টেস্টের ব্যবস্থাপনার অত্যন্ত আগ্রহ ও উদ্দীপনার মাধ্যমে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন।


