Breaking News Ticker

পুনঃখননে প্রাণ ফিরছে তুলশীগঙ্গার বুকে

0
featured image

একসময় নদীমাতৃক বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ছোট-বড় প্রায় ৭০০-৮০০ নদ-নদী প্রবাহিত ছিল। এই নদীগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে দেশের সভ্যতা ও সংস্কতি। উত্তরের খাদ্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত কৃষিপ্রধান নওগাঁ জেলায় ৭টি বড় নদী বহমান রয়েছে। বড় নদীগুলোর শাখা নদী/খালগুলো পানির রিজার্ভার হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

একসময়ের খরস্রোতা তুলসীগঙ্গা নদীই রাণীনগর হয়ে নওগাঁ থেকে জয়পুরহাট যাওয়ার একমাত্র সহজ পথ ছিল। কিন্তু কালক্রমে আজ সেটা রূপকথার গল্পে পরিণত হয়েছে। জয়পুরহাট থেকে শুরু হয়ে নদীটি নওগাঁ শহরের মধ্য দিয়ে রাণীনগরে এসে ছোট যমুনা নদীতে মিলিত হয়েছে। বছরের পর বছর নদীটি শাসন ও খনন না করা এবং অবৈধ দখল-দূষণের কারণে বর্তমানে তুলসীগঙ্গা এক মৃতপ্রায় নদীর নাম।

স্বাভাবিকভাবে পানি চলাচলের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বর্তমানে পুরো নদীটি কচুরিপানাতে ভরা। এছাড়া শহরের বিভিন্ন স্থানের ময়লা-আর্বজনা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি জমায় ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে। একসময় এই নদী দিয়ে বড় বড় পাল তোলা নৌকা বয়ে যেত, বড় বড় মাছ উঠতো জেলেদের জালে, স্থানীয়রা নদীর পানি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করতো। তুলসীগঙ্গার সেই যৌবনের দিনগুলো আজ ইতিহাস। পুনরায় তুলসীগঙ্গার সেই হারানো যৌবনকে ফিরিয়ে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে খনন করা হয়েছে মৃতপ্রায় তুলসীগঙ্গাকে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, খননের ফলে নদীতে শুষ্ক মৌসুমে আবার পানি জমে থাকবে। সেই পানি চাষাবাদ, মাছ চাষসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করতে পারবেন। কিছুটা হলেও হারানো যৌবন ফিরে পাবে মৃতপ্রায় নদীটি।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড দেশের ৬৪টি জেলার ছোট নদী, খাল-বিল ও জলাশয় পুনঃখননের প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে দেশের মৃত নদী, খাল-বিল ও জলাশয়গুলো প্রাণ ফিরে পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আবারও চালু হবে নৌপথে চলাচল। তারই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি তুলসীগঙ্গা নদী (পুরাতন) ৬ কিলোমিটার পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফজ্জামান খানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে খননকাজের উদ্বোধন করেন নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য জনাব ব্যারিস্টার নিজাম উদ্দিন জলিল জন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, সহকারী কমিশনারসহ (ভূমি) স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফজ্জামান খান জানান, তুলসীগঙ্গা (পুরাতন) নদীটি ২০ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ১০ কিলোমিটার খনন করা হয়েছে, এবার আরও ৬ কিলোমিটার খনন করা হবে। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রায় ২ কিলোমিটার খনন করেছে এবং উজানে প্রায় ২ কিলোমিটার অংশে ক্লোজার রয়েছে, যা মূল তুলসীগঙ্গা নদী থেকে পুরাতন তুলসীগঙ্গা নদীকে পৃথক করেছে। নদীটি ভাটিতে ছোট যমুনা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে, মিলনস্থলে একটি দুই ভেন্টের রেগুলেটর রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, খননের ফলে নদীর দুই তীরের কৃষকরা শুষ্ক মৌসুমে চাষাবাদের জন্য পর্যাপ্ত পানি পাবে। নদীতে পানি থাকায় মৎস্য চাষের সুযোগ সৃষ্টি হবে, গ্রাউন্ড ওয়াটার রিচার্জের ফলে ভূগর্ভস্থ পানির প্রাপ্যতা বাড়বে, নদীকেন্দ্রিক বিনোদনকেন্দ্র সৃষ্টি হবে, পরিবেশগত ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা হবে।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.
Post a Comment (0)

buttons=(Accept !) days=(20)

Accept !
To Top